দেবীদ্বারসহ দেশের ১২ টি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ ও ৮ পুনর্নির্মাণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তর এবং দেশের দুর্গম ও গ্যাপ এরিয়া চিহ্নিত করে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে ৯ শতাধিকে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা দেবীদ্বারে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
তিনি দেবীদ্বারবাসীকে শুখবর দিয়ে বলেন, খুব শিগগিরই দেবীদ্বার পৌরসভার বারেরা এলাকায় বি- শ্রেণীর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্মাণকাজ শুরু হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান করা হয়েছে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান অতি শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে আরো বলেন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি চালু হলে দেবীদ্বারবাসীর অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি সেবা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল এ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে সারা দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন চালু রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসকে আরও আধুনিক ও দ্রুত সেবাসূলক প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে এসব ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছে, বর্তমানে যা একজন প্রকল্প পরিচালকের অধীনে বাস্তবায়নের কাজ চলমান আছে। ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ বাস্তবায়নাধীন এসব প্রকল্প এলাকাগুলো হচ্ছে- ঢাকা, গাজীপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, নওগাঁ, পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া, সিলেট, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও জামালপুর। ১২টি নতুন নির্মাণাধীন ফায়ার স্টেশন হচ্ছে,- কুমিল্লার দেবীদ্বার, ব্রাহ্মণপাড়া ও নাঙ্গলকোট (বি শ্রেণি), ঢাকার- নবাবগঞ্জ (বি শ্রেণি), গাজীপুরের- পূবাইল (বি শ্রেণি) এবং শিমুলতলী (বিশেষ শ্রেণি), নোয়াখালীর- শিবপুর (বি শ্রেণি), ফেনীর- দাগনভূঞা (বি শ্রেণি), যশোর- নারিকেলবাড়িয়া (বি শ্রেণি), কুষ্টিয়ার দৌলতপুর (বি শ্রেণি), হবিগঞ্জ- আজমেরীগঞ্জ (স্থল কাম নদী শ্রেণি) ও জামালপুর- পিয়ারপুর (বি শ্রেণি)। এছাড়াও ৮টি পুনর্নির্মাণ ফায়ার স্টেশন হলো- মাদারীপুর সদর-মাদারীপুর (এ শ্রেণি), কুমিল্লা সদর- কুমিল্লা (এ শ্রেণি), মাইজদী- নোয়াখালী (এ শ্রেণি), চৌমুহনী- নোয়াখালী (এ শ্রেণি), নওগাঁ সদর- নওগাঁ (এ শ্রেণি), ঈশ্বরদী-পাবনা (এ শ্রেণি), সিলেট সদর-সিলেট (এ শ্রেণি) ও ময়মনসিংহ সদর-ময়মনসিংহ (এ শ্রেণি)।
সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, শুধু আগুন নেভানো নয়, বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বের পরিধি অনেক বিস্তৃত। সড়ক দুর্ঘটনা, ভবন ধস, ভূমিকম্প, বন্যা, নৌ-দুর্ঘটনা, রাসায়নিক দুর্ঘটনা এবং অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলায়ও সংস্থাটিকে সমানভাবে প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে। সে কারণে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।