কুমিল্লার দেবীদ্বারে বাঁশঝাড়ের মালিকানা নিয়ে বিরোধে জের ধরে দিনমজুর শফিকুল ইসলাম (৪৫)কে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার খোদাইচর বটতলী বাজার এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে ওই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা সফিক হত্যার দায়ে অভিযুক্ত লিমন ও নিশাদ এর বাড়ি-ঘরে হামলা ভাংচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিহত দিনমজুর সফিকুল ইসলাম(৪৫) বারুর গ্রামের এনু মেম্বারের বাড়ির মৃত মহাজ উদ্দিনের ছেলে। নিহত সফিক একজন দিন মজুর। সে বাঁশ বেত দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরী করে বাজারে বিক্রি করে তার আয় দিয়ে সংসার চালাতেন।
উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪ টায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বারুর গ্রামের এনু মেম্বারের বাড়ির বাঁশঝাঁরের মালিকানা নিয়ে ওই প্রতিপক্ষের হাতে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
ওই দিন বাড়ির পাশে নিজের বাঁশ ঝার থেকে বাঁশ কাটতে যান সফিকুল। এসময় ওই বাড়ির মৃত এনু মেম্বারের ছেলে লিমন(৪৭) এবং লিমনের বড় ভাই নজরুল ইসলামের ছেলে নিশাদ (২৬) তাদের বাঁশঝার থেকে বাঁশ কাটতে বাঁধা দেয়। এসময় সফিকুল তার নিজের বাঁশ ঝার থেকে বাঁশ কাটছে বলে দাবী করেন। প্রথমে তর্কাতর্কী পরে হাতা হাতি এক পর্যায়ের ঘর থেকে, দা, ছোরা ও হাতুরি নিয়ে সফিকের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। লিমন সফিকুল ইসলামকে চেপে ধরে রাখে, নিশাদ হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে এবং দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে লিমন তার হাতের ছোরা দিয়ে পেটে সজোরে পোচ দিলে পেটের ভুরি বেড়িয়ে যায়। স্থানীয়রা সফিকের পেট থেকে বের হওয়া ভুরি পেটে ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই ঘটনায় নিহত সফিকুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে লিমন তার ভাই নজরুল ইসলাম ও নজরুলের ছেলে নিশাদসহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় হত্যা মামলা দায়েরে করেন। ঘটনার দিন সন্ধার পর সাড়ে ৭টায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত লিমনকে আটক করে। লিমন দিনমজুর সফিকুল ইসলামকে হত্যার পর খাবার খেয়ে পাশের বাড়ির একটি ঘরে মশারী টানিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুয়েছিল। অপর ঘাতক লিমনের ভাতিজা নিশাদ ঘটনার পর পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপর দিকে গতকাল অভিযানে নজরুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মো. ময়নাল হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা কাইয়ুম, মাষ্টার কাইয়ুম, হাজী জাকির হোসেন, নিহতের স্ত্রী নারগিস আক্তার, আরো উপস্থিত ছিলেন, শহিদুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, আবুল কালাম, ব্যাংকার মো. ফারুক, মো. শাহআলম, নিহতের বড় ভাই নুরুল ইসলাম, মো. শাহজান, মো. ইউনুস, আবুল হোসেন, শরীফ, শাহিন প্রমূখ।
দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন,
সফিকুল হত্যা মামলার ৩ আসামীর মধ্যে ২ আসামীকে আটক করা হয়েছে। আর একজনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। এরই মধ্যে গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছে, তাতে সমস্যা নাই বিক্ষুব্ধ জনতা আসামীদের বাড়িঘর ভাংচুর এ তছনছ করে দেয়া ঠিক হয়নি। ওই ঘটনায় কেউ মামলা করলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।