বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাব্বির হোসেন (১৯) হত্যা মামলায় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মুকবল হোসেন মুকুল হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ মে) সকাল ১০টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৯ নম্বর গুনাইঘর (উ.) ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান। কুমিল্লার দেবীদ্বারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাব্বির হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি মুকুল।
আটক মুকুল উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেন সরকারের ছেলে এবং ৯ নম্বর গুনাইঘর (উ.) ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারমাম্যান। তিনি একই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন এবং দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-গণআন্দোলনে অভ্যুত্থানের পর থেকে পলাতক ছিলেন।
জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে দেবীদ্বার উপজেলা সদরের নিউ মার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।
এতে সাব্বিরও যোগ দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এ সময় সাব্বিরের মাথায় দুটি গুলি লাগে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান দীর্ঘ ৩৫ দিন চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে তাকে কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি গ্রামে নানাবাড়িতে আনা হয়। বাড়ি আসার তিন দিন পর শরীরে ব্যথার কথা জানান তিনি। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৩৯ দিন পর ছাব্বির নানার বাড়িতে মারা যান। সাব্বিরের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আলমগীর হোসেনের ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর মায়ের সঙ্গে ছোট্ট দুই ভাই-বোন নিয়ে থাকতেন দেবীদ্বার পৌর দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি এলাকায় নানার বাড়িতে। পাশের মরিচাকান্দা জিয়া স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন সাব্বির। পাশাপাশি সংসারের খরচ জোগাতে চালাতেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সাব্বিরের মা রিনা আক্তার বলেন, ‘আজ থেকে ৪ বছর আগে সাব্বিরের বাবার মৃত্যু হয়। এর পর থেকে সাব্বির পড়ালেখার পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাত। সরকার পতনের দাবিতে প্রতিদিনই সে আন্দোলনে যেত। কোনোভাবেই তাকে ঘরে আটকে রাখতে পারিনি। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সাব্বিরকে হত্যাচেষ্টায় ৯৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ১৫০ জনকে আসামি করে ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করেন তার মামা নাজমুল হক। ওই মামলাটি পরবর্তী সময়ে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। গ্রেপ্তার মুকুল ছাব্বির, রুবেল হত্যা ও আবুবকর হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা সবকটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।’